মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বাঁশখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ৩ নম্বর খানখানাবাদ ইউনিয়নের খলিফারোপুলতলা থেকে শাহাজাহান চৌধুরী সড়কের মাথা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদামাটি ও জলাবদ্ধতায় সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষায়, "কেউ কথা রাখেনি"— এই তিনটি শব্দই যেন তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ক্ষোভ ও ভোগান্তির প্রতিচ্ছবি। নির্বাচন এলেই কিংবা বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতির সেই উন্নয়ন আজও বাস্তবতার মুখ দেখেনি।
এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। কাদামাটিতে পিচ্ছিল হয়ে পড়ে পুরো পথ। এতে পথচারীদের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় রোগী বহনকারী যানবাহনও দুর্ভোগের শিকার হয়। বাধ্য হয়ে অনেকেই বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি মানুষের আস্থা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সমাজসেবক ও প্রবাসী জালাল উদ্দীন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"এই সড়কের দুরবস্থা আজকের নয়। বছরের পর বছর ধরে মানুষ একই কষ্ট ভোগ করছে। কত নেতা এলেন, কত প্রতিশ্রুতি দিলেন, কত আশ্বাস দিলেন— কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ কথা রাখেনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।"
তিনি আরও বলেন, "প্রবাসে থেকেও আমরা এলাকার উন্নয়নের খোঁজখবর রাখি। কিন্তু মানুষের ন্যূনতম চলাচলের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া হতাশাজনক। জনগণ আর ফাঁকা আশ্বাস চায় না; তারা টেকসই উন্নয়ন দেখতে চায়। খলিফারোপুলতলা থেকে শাহাজাহান চৌধুরী সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।"
খানখানাবাদ ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকদের মতে, এটি শুধু একটি সড়ক নয়; বরং এলাকার শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। তাই অবিলম্বে সড়কটি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের একটাই প্রত্যাশা— দীর্ঘদিনের অবহেলা ও প্রতিশ্রুতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তব উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক। কারণ তাদের কণ্ঠে আজও উচ্চারিত হচ্ছে সেই আক্ষেপের বাক্য— "কেউ কথা রাখেনি।" :::