নিজস্ব প্রতিবেদক, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যাত্রীবাহী একটি প্রাইভেটকারে বিশেষ কৌশলে তৈরি গোপন চেম্বার থেকে আনুমানিক সাড়ে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িতে থাকা এক নারী ও এক পুরুষ অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়দারোগাহাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে একটি প্রাইভেটকারে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়। রাতের অভিযানে বড়দারোগাহাট এলাকায় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দিলে চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ধাওয়া করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়িটি জব্দ করতে সক্ষম হলেও এর আরোহীরা পালিয়ে যায়।
জব্দ করা প্রাইভেটকারটি থানায় নিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. রাসেলের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গাড়ির পেছনে থাকা একটি সন্দেহজনক গ্যাস সিলিন্ডার সদৃশ ট্যাংকি পুলিশের নজরে আসে। পরে মেকানিকের সহায়তায় বিশেষভাবে তৈরি ওই ট্যাংকি কেটে দেখা যায়, এর ভেতরে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা।
পুলিশের গণনায় সেখানে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, “বর্তমান সরকার ও পুলিশ প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা দূর করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। এই চালানের সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্রের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন ও চেসিস নম্বরের তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত মালিক এবং চালককে শনাক্ত করার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে মাদক চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, ওসি মো. মহিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই জাফর, এসআই আশরাফসহ পুলিশের একটি চৌকস দল সফল এ অভিযান পরিচালনা করে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।