ঢাকামঙ্গলবার , ১৬ জুন ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নির্বাচন
  11. প্রবাস
  12. ফটো গ্যালারি 
  13. বাংলাদেশ
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ খবর

সীতাকুণ্ডে পাওনা টাকা দাবি করায় ব্যবসায়ীকে চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ১৬, ২০২৬ ৩:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের বিরুদ্ধে পাওনা টাকা দাবি করায় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

অভিযোগের মুখে থাকা ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার বার আউলিয়া এলাকার চিকনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন হাফিজ জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জীবিকার তাগিদে শিপব্রেকিং শিল্প সংশ্লিষ্ট ‘বোকারি’ ব্যবসায় যুক্ত হন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সোনাইছড়ি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত ‘বিওবি রিসাইক্লাস শিপইয়ার্ড’ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে কিছু মালামাল ক্রয়ের জন্য জাহাঙ্গীর আলম এক লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। তবে পরবর্তীতে নির্ধারিত মালামাল তাকে বুঝিয়ে না দিয়ে অন্য একটি পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়। এ অবস্থায় তিনি অগ্রিম অর্থ ফেরত চাইলে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় পাওনা টাকার বিষয়ে কথা বলতে গেলে কোম্পানির এক পরিচালকের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের বাকবিতণ্ডা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সীতাকুণ্ড মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে অসংখ্য ব্যক্তি মতামত প্রকাশ করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক নেতা ও এলাকাবাসীর অনেকেই দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে শিপইয়ার্ড সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কখনো চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ শোনা যায়নি। তাদের মতে, পাওনা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করায় তিনি পরিকল্পিতভাবে মামলার শিকার হয়েছেন।

জাহাঙ্গীর আলমের পিতা মুফিজুর রহমান ও ছোট ভাই মোস্তাকিম বলেন, “চাকরি হারানোর পর অনেক কষ্ট করে জাহাঙ্গীর সংসারের হাল ধরেছে। মালামাল কেনার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েও তা ফেরত পায়নি। এখন উল্টো মিথ্যা মামলায় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘বিওবি রিসাইক্লাস শিপইয়ার্ড’-এর পরিচালক নাজমুল হুদা তানবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে মামলার বাদী ও প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আলমগীরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Visited ৭ times, ১ visit(s) today

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও  কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।