নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে অনেকগুলা দর্শনীয় স্থান রয়েছে এর মধ্যে চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত হচ্ছে অন্যতম। শহরের ভিড়ের মাঝে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ এবং দুর্বিষহ মনে হয় ঠিক তখনই মানুষ দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে এই গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে। এখানে এসে সবাই প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যায় এবং জীবনটাকে নতুন করে উপভোগ করতে শিখে। তাই মানুষ ছুটে আসে এই অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সীতাকুণ্ড গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে। প্রতিদিন এখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসে হাজারো পর্যটক।
আর এমন একটি সুন্দর সমুদ্র সৈকতে আসতে প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে এই সমুদ্র সৈকতে প্রধান সড়ক। প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা ভেঙে মানুষের চলাচলে একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।তাই পর্যটকদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। এই গুলিয়াখালীতে বসবাস করে প্রায় সাত হাজার মানুষ। পর্যটকদের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। গুলিয়াখালীর এই প্রধান সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে হাজার হাজার সিএনজি অটো রিক্স ভ্যান প্রাইভেট কার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছোট বড় অনেক ধরনের কাভার্ডভ্যান।
গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরতে আসা এক পর্যটক জানান, আমরা বাংলাদেশে এবং দেশের বাহিরে অনেক জায়গায় ঘুরতে গিয়েছি এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এই সীতাকুণ্ড গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত। এখানকার প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে আমরা মুগ্ধ। শুধুমাত্র একটা বিষয় আমার কাছে খুব বেশি খারাপ লেগেছে তা হচ্ছে এখানকার যাতায়াত ব্যবস্থা সীতাকুন্ড থেকে গুলিয়াখালি সড়কে ঢুকার থেকে সমুদ্র সৈকতের আগ পর্যন্ত সম্পূর্ণ সড়কটি একেবারে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।সড়কে বিভিন্ন জায়গায় ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে আসার পথে আমাদের সিএনজিটা ঠিক করে চালাতে পারছিল না চালক। একপর্যায়ে আমার স্ত্রী সন্তান পড়ে গিয়ে আহত হয়। তাই আমি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব যেহেতু অতি দ্রুত এ সড়কটি মেরামত করেন।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা কিছু পর্যটন জানান, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে অনেক শুনেছি তবে কখনো আসা হয়নি এই প্রথম আসলাম এসে খুব ভালো লাগলো শুধুমাত্র একটা জিনিসই খুবই অস্বস্তিকর এবং খারাপ লেগেছে সেটা হচ্ছে এখানকার রাস্তাঘাট। এখানকার রাস্তায় খুব বেশি চলাফেরার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে আর তাই অনেক সিএনজি এবং রিক্সা অটো ড্রাইভাররা এখানে আসতে চাইছিল না যার কারণে আমাদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে। আর তাই আপনাদের মাধ্যমে আমরা স্থানীয় প্রশাসন কে বলবো অতি দ্রুত এ সড়কটি যেন মেরামত করা হয়।
এলাকার স্থানীয়রা জানান, গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতের এটি প্রধান সড়ক এ ছাড়া আর বিকল্প কোন সড়ক নেই। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি চলাচল করে আর তাই প্রতি বছরই এই সড়কটির কোন না কোন পাশ ভেঙ্গে পড়ে আর তাই আমরা স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পড়ি। আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়ে পড়ে। আর তাই আমরা স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই যেন আমাদের এই সড়কটি অতি দ্রুত মেরামত করা হয়।
সীতাকুন্ড উপজেলা এলজিডির প্রধান কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর আমাদের জানাই, বর্তমান প্রকল্পে সীতাকুণ্ড গুলিয়াখালীর সড়কটির কাজ আমাদের আওতাধীন রয়েছে। এ সড়কটির বাজেট অনুযায়ী মে মাসের শুরুর দিকে সড়কটির কাজ শুরু হয়েছিল তবে সড়কটির অনেকগুলো জায়গা নিচু আর তাছাড়া বর্ষা মৌসুমের কারণে আমরা কাজ ভালোভাবে শুরু করতে পারিনি। এখন বর্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে আশা করছি খুব দ্রুত এই সড়কটির কাজ শুরু হবে।

