ঢাকাশুক্রবার , ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নির্বাচন
  11. প্রবাস
  12. ফটো গ্যালারি 
  13. বাংলাদেশ
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ খবর

সীতাকুণ্ডে পাহাড় কেটে ‘কনটেইনার টার্মিনাল’! ৫ হাজার গাছ নিধন—অভিযানে জেল-জরিমানা, বন্ধ সব কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ৫:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদন:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড় কাটা, পুকুর ভরাট এবং প্রায় পাঁচ হাজার গাছ নিধন করে অবৈধভাবে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের দায়ে একে এইচ লজিস্টিকস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং এক কর্মকর্তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিনব্যাপী উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বাড়বকুণ্ড বাজারের পূর্ব পাশে মকবুলার রহমান জুট মিলস এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একে এইচ লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের মদদে বিশাল একটি পাহাড় কেটে সমতল করছিল। পাশাপাশি একটি বড় পুকুর ভরাট করে সেখানে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চালিয়ে আসছিল। এতে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।

শুধু তাই নয়, টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ওই এলাকায় ব্যাপকহারে ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়। এক সময় সবুজে ঘেরা পাহাড়ি এলাকা এখন প্রায় বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বাণিজ্যিক স্বার্থে এমন পরিবেশ ধ্বংসের চিত্র দেখে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারাও বিস্ময় প্রকাশ করেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাহাড় কাটা, পুকুর ভরাট ও গাছ নিধনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পায় প্রশাসন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে দোষী সাব্যস্ত করে একে এইচ লজিস্টিকসের কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ (৫০)-কে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি কোনো বৈধ কাগজপত্র বা অনুমোদন দেখাতে পারেনি। পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই তারা পাহাড় কাটা ও জলাশয় ভরাটের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিল। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও ক্ষোভও বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এমন ধ্বংসযজ্ঞ চললেও প্রভাবশালী মহলের কারণে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। পরিবেশ বাদীদের মতে, যে পরিমাণ পাহাড় ধ্বংস ও গাছ নিধন করা হয়েছে, তার তুলনায় জরিমানার পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। তারা এ ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

অভিযান চলাকালে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস এবং সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

Visited ৩৯ times, ১ visit(s) today

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও  কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।