নিজস্ব প্রতিবেদক:
শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক এক্সিলেন্সি তৈরিতে সহযোগিতা, ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতনার জন্য ক্যারিয়ার গাইডলাইন, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতন করে গড়ে তোলা, সমাজিক দায়বদ্ধতায় নিজেরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সমাজকে সুন্দররূপে গড়ে তুলতে প্রয়োজন হয় ছাত্র রাজনীতির।
আলহামদুলিল্লাহ ৫ আগষ্ট ২০২৪ ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের বিদায়ের মাধ্যমে চমৎকার একটি পরিবেশ পেয়েছে সকল ছাত্র সংগঠন। ৫ই আগষ্টের পূর্বে শরীয়তপুরের কোনো প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের বাহিরে অন্য কারো কাজ করা ছিল দূরহ ব্যাপার। যদিও আমাদের সকল প্রতিষ্ঠানেই কাজ ছিল। কিন্তু এখন যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমরা সকল শিক্ষার্থীদের নিকট যেতে পারছি সেভাবে যাওয়া সম্ভব ছিলনা। জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও গাজীদের জন্য আমরা প্রাণভরে দোয়া করি মহান আল্লাহ তাদের এই আত্নত্যাগ ও কুরবানীকে জাতির মুক্তির দ্বার হিসেবে কবুল করুন আমিন।তাদের অদম্য সাহসীকতায় আজ আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে প্রাণ ফিরে পেয়েছি।
শরীয়তপুরের ছাত্র রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং এই জনপদের ছাত্র নেতৃত্ব সকল ছাত্র সংগঠনের জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ গড়ায় ভূমিকা রেখেছে। তবুও এই জনপদের সকল ছাত্র সংগঠন শিক্ষার্থীবান্ধব কাজে নিজেদেরকে তুলে ধরতে পারছেনা।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শরীয়তপুরের জনপদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের রোষানলে যা দৃশ্যমান হয়নি। এবং সব সময় ছাত্রশিবিরের চমৎকার কাজগুলোকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
গত ৫ আগষ্ট ২০২৪ থেকে এই ১ বছরে আমরা যে কাজ করেছি তার মধ্যে ইন্টার্নাল সাংগঠনিক প্রোগ্রামাদির বাহিরে যেগুলো সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে কাজগুলো করা হয়েছে তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি-
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত পরিবারের তালিকা প্রণয়ন করে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করা, শহীদ ও আহত পরিবারের পুনর্বাসনে প্রশাসনের সকল উদ্দ্যোগে পাশে থাকা, ফেনীতে দুর্যোগের সময় ত্রাণ কালেকশন ও তা পৌছে দেয়া।
৩দিন ব্যাপী প্রকাশনা উৎসব যা পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়ার কারণে একদিন বাড়িয়ে ৪দিন ব্যাপী করতে হয়েছিল।
চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির ৪৩৩২ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন। যেখানে মোট ২০৫ জন শিক্ষার্থীকে ২টি ক্যাটাগরি বৃত্তিপ্রদান করা হয়।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া পরিবারের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা।
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত পরিবারের সার্বক্ষণিক খোজ খবর নেয়া ও বিভিন্ন ওকেশনে তাদেরকে সহযোগিতা করা হয়।
৬ ফেব্রুয়ারী প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা। বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোয়া অনুষ্ঠান ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান অনুষ্ঠান।
অনার্স ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য হেল্প ডেস্ক, সুপেয় পানি, ফাইল কলম ইত্যাদি উপহার দেয়া হয়।
পবিত্র রমাদান মাসে এবং কুরআন দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন উপজেলার ৫০০ শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআন উপহার প্রদান।
পবিত্র রমাদান, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোর নিকট রমাদান ফুডপ্যাক, ঈদ ফুডপ্যাক ও ঈদ সামগ্রী পৌছে দেয়া হয়েছে। ঈদুল আজহায় ২০০ পরিবারকে কুরবানির মাংস পৌছে দিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন।
মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে সকল থানায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষ বিতরণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
এসএসসি, দাখিল পরীক্ষার্থীদের নিয়ে থানাভিত্তিক শিক্ষাসফরের আয়োজন করা। এসএসসি, দাখিল পরীক্ষার্থীদের নিয়ে ICT অলিম্পিয়াড করা হয়।
এসএসসি/দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩০০ শিক্ষার্থীদের নিয়ে GPA-5 FELICITATION-25 প্রোগ্রাম করে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধিত করা।
বিভিন্ন দিবসে ফ্রি ব্লাড গ্রুপ ক্যাম্পিং, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবল টুর্নামেন্ট, কুইজ প্রতিযোগিতা, সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতাসহ নানাবিধ আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ছাত্রশিবির ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও সকল জাতীয় ইস্যু ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে রাজনৈতিক সচেতনা তৈরিতে মিছিল ও সমাবেশ করা হয়।
যে কাজগুলো আমরা ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পরে উন্মুক্ত পরিসরে করতে পেরেছি। এই সবগুলো কাজ আমরা জুলাই বিপ্লবের পূর্বেও করেছি। আমাদের তখন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজনগুলো করতে হয়েছে। যা ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও আমরা উন্মুক্ত ময়দানে ব্যাপক পরিসরে করতে পারিনি। আমাদের সকল আয়োজনের ডকুমেন্টগুলো আর্কাইভ করা রয়েছে।
তবে সামগ্রিকভাবে আমাদের এই কাজগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনগুলো অনেকগুলো (শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো, পরীক্ষার পূর্বে হেল্প ডেক্স ও বৃক্ষরোপণ) সুন্দর আয়োজন করলেও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রত্যাশিত যে কাজগুলো করার কথা ছিল তা দৃশ্যমান হয়নি বলে অবলোকন করছি। কিছু ছাত্রসংগঠন তো শুধুমাত্র কমিটি ঘোষণা এবং তা বাতিল করা নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে পরেছিল। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শরীয়তপুর ছাত্রসমাজ ও SSS সংগঠন শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেশ কিছু সুন্দর আয়োজন করা হয়েছে। যার মধ্যে SSS নামক সংগঠনের গণিত অলিম্পিয়াড অনেকবেশি আকর্ষণীয় ও শিক্ষার্থীদের মনন বিকাশে চমকপ্রদ ছিল।
আমরা সকল ছাত্রসংগঠন যখন শিক্ষার্থীবান্ধব কাজগুলো ব্যাপকহারে করতে পারবো তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে যে গুণগত মান পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে তা বাস্তবায়িত হবে। আমাদের প্রত্যাশা শরীয়তপুরকে আধুনিক ও সকল সুযোগ সম্বলিত ফাস্ট ক্যাটাগরির জেলায় পরিণত করা। সেজন্য প্রয়োজন একঝাক তরুণ ও মেধাবী নেতৃত্বের। সকল ছাত্রসংগঠন ইনক্লুসিভ প্রক্রিয়ায় কাজ করার মাধ্যমে যা অর্জন করা সম্ভব।

