ঢাকাবুধবার , ৭ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নির্বাচন
  11. প্রবাস
  12. ফটো গ্যালারি 
  13. বাংলাদেশ
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ খবর

নবজাতকের মৃত্যর নিউজ প্রচা করায়, গর্ভবতীদের প্রসব বেদনা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন নারী চিকিৎসক।

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৫:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

“আপনারা একটা কাজ করবেন এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেন উঠছে না, পানি কেন ভাঙছে—এই যাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিক থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে।”

এমন লেখা লিখে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ডাঃ খাইরাতুন হিসান কেয়া নামে এক নারী চিকিৎসক তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এর আগে ওই নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নরমাল ডেলিভারি করানোর সময় এক নবজাতককে মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় কিছু গণমাধ্যম কর্মীর ব্যাক্তিগত সোস্যাল মিডিয়াতে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ৩ অক্টোবর শনিবার সকালে উপজেলা শুভপুর ইউনিয়নের খামারপুষ্কুরুনী গ্রামের ওমান প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী নাজমা আক্তারের প্রসব ব্যাথা উঠলে তারা চৌদ্দগ্রামের (আল নুর) নামে একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে এলে ডাঃ খাইরাতুন হিসান কেয়া দিনভর নরমাল ডেলিভারি চেষ্টা করে, এক পর্যায়ে বিকেলে প্রসূতি নাজমা আক্তারের কন্যা সন্তান হলেও, কপালে ধারালো অস্ত্রের আঘাত জনিত কারণে মৃত্যু হয় নবজাতকটির।

এঘটনায় ডাঃ খাইরাতুন হিসান কেয়া ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার রাতে তার ব্যাক্তি ফেইসবুক পেইজ (Dr.Khairatun Hisan keya) লিখেন।

পুরো লেখাটি পাঠকদের জন্যে হুবহু তুলে ধরা হলো।

” নাজমা রুগী আমার কাছে আরো ২ দিন আগে ভোর বেলা আসে, আমি তখন একটা নরমাল ডেলিভারি করছিলাম। তখন ওর ব্যথা আসে যায় এমন। আল্ট্রা রিপোর্ট ভালো। আমি জরায়ুমুখে ক্যাথেটার করে দেই যেনো এটা সুন্দর খুলে যায়। ওর জরায়ুমুখ পুরোটা খুলে ক্যথেটার পরে যায় দুপুর ১২ টায় এরপর আমরা আস্তে আস্তে স্যালাইন শুরুকরি ব্যথা বাড়ার জন্য।। আমি সব সময় রুগীদের বলি না পারলে আগে বলে দিও যে পারবা না, কারন জোর করে নরমাল ডেলিভারি করানো সম্ভব না।।

আর বাচ্চার মাথা নিচে নেমে আসলে সিজার করেও রুগীর অবস্থা খারাপ হয়। ওকে ব্যায়াম করতে বলে আসলাম।।

আমি আবার দুপুর ১:৪৫ মিনিটে ওর কাছে যাই তখন ওর চাপের সাথে বাচ্চার মাথা দেখা যায়।এর একটু পর থেকেই রুগী ব্যথায় আর চাপ দিতে পারছিলো না।। আমরা বাধ্য হয়ে যখন আর পারছিলাম না তখন ওকে কুমিল্লা রেফার করি।। যে বাচ্চা আমি এখানে ডেলিভারিই করতে পারলাম না, ঔ বাচ্চার মাথায় আমি আঘাত দিলাম কিভাবে!!! আমাকে বলেন??!!!…..

আর একজন লিখলেন আমি নাকি ভর্তি হওয়ার সাথে সাথে ওনাকে পিটোসিন দিসি, তাই উনার বাচ্চা পেটে মারা গেসে!!!কি

প্রমান আছে আপনার কাছে!!!???

আপনার বাচ্চা পেটের মধ্যে মারা গিয়েছিলো।। আমি সেটা নরমাল ডেলিভারি করে দিয়েছি ৫ ঘন্টা সময় নিয়ে।। কোন ধরনের ইপিসিয়োটমি না দিয়ে, যেনো ছিড়ে না যায়।।।

আমি নিজে দাড়িয়ে থেকে নরমাল ডেলিভারি করেছি।।

আপনারা কতবড় নিমকহারাম মানুষজন।। আমি কাদের উপকার করলাম এতোদিন!!!… এখন থেকে ঐ মূহুর্ত থেকে আমি বলে দিচ্ছি যে সব রুগী ৫ মাসের পর থেকে আমার ফলোআপে থাকবে শুধু তাদের দয়িত্ব আমি নিবো।।

অন্য কারো রুগী আমার কাছে আসবেন না, দয়া করে।।

আমি তাদের দেখবোও না,ডেলিভারি ও করবো না।।।

“আপনারা একটা কাজ করবেন এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেনো উঠছে না, পানি কেনো ভাঙছে এই যাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিক থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে।।।

এ লেখাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকালে তিনি তার পেইজ থেকে লেখাটি ডিলিট করে দেন।

ভুক্তভোগী নাজমা আক্তারের প্রবাসী স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে জানান, “বিয়ের পর আমার প্রথম সন্তান জন্ম নেবে—এ নিয়ে আমি খুব আনন্দিত ছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকের অবহেলায় আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমার স্ত্রী এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন। পুরো পরিবার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ী চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া’র কাছে জানতে চাইলে, তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন, এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের সম্পর্কে মন্তব্য নিয়ে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল বলেন, এটা কোনো ডাক্তারের ভাষা হতে পারে না। তিনি কি কারণে এমন আচরণ করেছেন, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে এধরণের লেখা লিখেছেন তা আমারা খতিয়ে দেখছি।

Visited ১৮ times, ১ visit(s) today

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও  কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।