ঢাকাশুক্রবার , ১৫ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নির্বাচন
  11. প্রবাস
  12. ফটো গ্যালারি 
  13. বাংলাদেশ
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ খবর

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে দোকান উচ্ছেদ: অসহায় ব্যবসায়ীদের আহাজারি ও জনমনে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ১৫, ২০২৬ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ জয়নাল আবেদীন

সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের সাথে দোকানদারদের সংঘর্ষের জেরে ২৩টি দোকান উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। আকস্মিক এই উচ্ছেদে কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। উচ্ছেদকৃত দোকানের বৈধতা এবং সংগৃহীত টোলের টাকা কোথায় যায়, তা নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ।

জানা যায়, সৈকতের একটি দোলনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মধ্যে বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে কয়েকজন পর্যটক আহত হওয়ার প্রেক্ষিতে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ হামলার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে সৈকত তীরের ২৩টি দোকান উচ্ছেদ করে।

ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ ও সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া

উচ্ছেদের পর নিঃস্ব হয়ে পড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খোলা আকাশের নিচে আহাজারি করতে দেখা গেছে। সচেতন মহল এই উচ্ছেদ অভিযানকে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই দরিদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

একজন প্রবীণ নারী দোকানদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “প্রতিদিন টোল দেওয়ার পরেও আমাদের এভাবে উচ্ছেদ করা হলো। এটিই ছিল আমার আয়ের একমাত্র উৎস। এখন আমি আমার সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাব?”

টোল নিয়ে ধোঁয়াশা: বৈধ নাকি অবৈধ?

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা হারে ‘উন্নয়ন ফি’ আদায় করত ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রাম্য পুলিশের মাধ্যমে এই টাকা সংগ্রহ করা হতো। ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন—দোকানগুলো যদি অবৈধই হয়, তবে কেন প্রশাসনের নাম করে এতদিন নিয়মিত টোল আদায় করা হয়েছে?

অভিযোগ রয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে থাকা সফি মেম্বার টোলের টাকা লোপাট করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে টোল আদায় সাময়িক বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে সেই ফির পরিমাণ ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকা করা হয়।দোকানদাররা বর্ধিত টাকা দিতে অসম্মতি জানানোয় একটি মহল ষড়যন্ত্র করে উচ্ছেদ ত্বরান্বিত করেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন শিক্ষককে বিনাদোষে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ চলছে। তারা প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দাবি করার পাশাপাশি নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নুরুল আমিন নামের এক গ্রাম্য পুলিশ সদস্য জানান, দীর্ঘদিন ধরে দোকানগুলো নিয়ে অভিযোগ ছিল। টোলের টাকা পরিষদের মাধ্যমে জমা হতো, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়ীরা টাকা দিতে গড়িমসি করছিলেন।

সৈকতের এই দোকানগুলো বৈধ কি না, অবৈধ হলে কেন এতদিন উচ্ছেদ করা হয়নি এবং সংগৃহীত টোলের টাকা কার পকেটে গিয়েছে—এসব বিষয়ে জানতে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, সময় না দিয়ে হঠাৎ উচ্ছেদ করায় তারা মালামাল সরানোর সুযোগও পাননি। তারা অবিলম্বে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দাবি করেছেন।

Visited ২৬ times, ১ visit(s) today

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও  কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।