ঢাকামঙ্গলবার , ৫ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. নির্বাচন
  11. প্রবাস
  12. ফটো গ্যালারি 
  13. বাংলাদেশ
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ খবর

মিথ্যা মামলা, টাকা আদায় ও নির্যাতন—সীতাকুণ্ড থানার তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ৫, ২০২৬ ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদন:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড মডেল থানার দুই এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য, মিথ্যা মামলা দায়ের, শারীরিক নির্যাতন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন—এএসআই হারুন রশিদ, এসআই পরিমল এবং কনস্টেবল মেহেদী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এএসআই হারুন ও এসআই পরিমল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। নিরীহ মানুষকে ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি, বড় মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় এবং থানায় আটক রেখে নির্যাতনের মতো অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে থানায় নিয়ে রাতভর নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে, যা এলাকাবাসীর কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত।

এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী মোশারফ দীর্ঘদিনের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ সিকিউরিটি সেল এবং জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগকারী মোশারফ ‘সজীব’ নামের এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর এএসআই হারুন তার টিমসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোশারফকে গ্রেফতার করেন। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মোশারফ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আইনের আশ্রয় নেন।

ওসি আরও বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, সম্প্রতি পুলিশের সাবেক সদস্য মোশাররফকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। জানা যায়, এএসআই হারুন, এসআই পরিমল ও কনস্টেবল মেহেদী তাকে বিনা অপরাধে আটক করে আদালতে পাঠান।

ঘটনায় ‘সজিব’ নামের এক যুবককে জোরপূর্বক সাক্ষী বানানোর অভিযোগও উঠেছে। সজিব দাবি করেন, তাকে বাড়ি থেকে তুলে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোশাররফের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়।

পরে তিনি আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকার করেন যে, মোশাররফ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং পুলিশ তার কাছ থেকে জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে।

বাদীর এমন বক্তব্যের পর আদালত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে মোশাররফকে জামিন প্রদান করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

একজন পুলিশ সদস্য হয়ে সাবেক সহকর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিনের নিপীড়নের প্রতিবাদে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তাদের দাবি—অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।

Visited ১৩২ times, ১ visit(s) today

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও  কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।